বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> আজ পিরোজপুরের বৃহত্তম উপজেলা মঠবাড়িয়া হানাদার মুক্ত দিবস। বিজয়ের ২দিন পর এ উপজেলাটি শত্রু মুক্ত হয়। শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) মঠবাড়িয়ার ইতিহাসে স্মরণীয় দিন। শত্রুর হাত থেকে নব্য মুক্তি পাওয়া মঠবাড়িয়ায় সেদিন ঘরে ঘরে উড়েছিল লাল সবুজের বিজয় পতাকা।
শনিবার ১৮ ডিসেম্বর মঠবাড়িয়া মুক্ত দিবস উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বধ্যভূমিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মাখন লাল দাস মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। এছাড়া সূর্যমণি বধ্যভূমি সুরক্ষা কমিটি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বধ্যভূমিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শোক যাত্রার আয়োজন করেছেন।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সুন্দরবনে অবস্থান করছিলেন। তবে ওই দিন দিনগত ভোররাতে সুন্দরবন অঞ্চলের সাবসেক্টরের কমান্ডিং ইয়াং অফিসার লেফটেন্যান্ট আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে চারশতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুন্দরবন অঞ্চল হতে মঠবাড়িয়া শহর অভিমুখে রওনা দেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মঠবাড়িয়া ছিল নবম সেক্টরের অধীন সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলাকা।
সংগঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মঠবাড়িয়ায় স্বাধীনতা বিরোধীদের পরাস্ত করতে মঠবাড়িয়া শহর হতে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কালিরহাট বাজারে অবস্থান নেন। অপর দিকে শরণখোলা থেকে ওই রাতে ১২০ জনের সশস্ত্র একটি বীর মুক্তিযোদ্ধার দল কালিরহাট বাজারে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দেন। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ওই সশস্ত্র অবস্থান টের পেয়ে স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ওই রাতেই স্বাধীনতা বিরোধিরা রাজাকার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালায়।
মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে স্বাধীনতা বিরোধীদের আত্মসর্ম্পনের প্রস্তাব পাঠান। এরপর ১৮ ডিসেম্বর সকালে কালিরহাটে অবস্থান নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় মিছিল নিয়ে মঠবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করেন। ভীত সন্ত্রস্ত স্বাধীনতা বিরোধীরা বিনা রক্তপাতে আত্মসমর্পণ করলে মঠবাড়িয়া অঞ্চল শত্রু মুক্ত হয়। ওই দিন বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের শ্লোগানে মঠবাড়িয়া শহর মুখরিত করে তোলেন। এভাবে কোন রক্তপাত ছাড়াই ১৮ ডিসেম্বর মঠবাড়িয়া শত্রু মুক্ত হয়। পরে ২০ ডিসেম্বর স্থানীয় শহীদ মোস্তফা খেলার মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধদের এক সংবর্ধনা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য- ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মঠবাড়িয়ায় উপজেলায় মোট ৫১ জন স্বাধীনতাকামি বাঙালী তাদের প্রাণ বিসর্জন দেন।